আইআরআইয়ের জরিপ নিয়ে প্রশ্নটা জারি থাকলো। একাত্তর থেকে ছাব্বিশ। ধীরে ধীরে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কৈশোর, যৌবন এরপর প্রৌঢ়ত্ব বা বার্ধক্য। দেশ গঠনের ক্ষেত্রেও কি এমনটাই খাটে। না, দেশ যত দিন যায় ততই পরিণতির দিকে এগোয়। আর সেই পরিণতি হচ্ছে সমৃদ্ধি আর সুখের সূচকে ঋদ্ধি। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের পুরনো গোলকধাঁধাতেই আটকে থাকে জাতি। আর তা চলে দশকের পর দশক। চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে হাসিনা সরকারের পতনের পর আসে ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী জমানা। নানান বিতর্ক আর অস্থিরতা শেষে ছাব্বিশে আসে নির্বাচন। বিএনপি বিপুল ভোটে জয়ী হয়। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৮০ দিনের সময় বেঁধে দিয়েছেন কর্মপরিকল্পনার। মানুষ প্রত্যাশা নিয়ে উন্মুখ হয়ে আছে একটি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের। সরকার জনপ্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নানান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ত্বরিত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই মধ্যে একটি জরিপ ফলাফল প্রকাশ করেছে আইআরআই। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান গতিপথকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। যুক্তরাষ্ট্রের অলাভজনক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) সেন্টার ফর ইনসাইটস ইন সার্ভে রিসার্চ পরিচালিত দেশব্যাপী জনমত জরিপে ৬২ শতাংশ উত্তরদাতা দেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থাকে ‘মোটামুটি ভালো’ বা ‘খুব ভালো’ বলে মত দিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে বলে মনে করেন বিপুলসংখ্যক মানুষ। জরিপে ৮৩ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে জনগণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিচ্ছিন্নতা রয়েছে। ৯ই আগস্ট নিজেদের ওয়েবসাইটে এ বিষয়ে ৫৭ পৃষ্ঠার একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে আইআরআই। তাদের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও বলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর আস্থা পুনর্গঠনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধন করেছে। তবে গণতন্ত্র শক্তিশালী করা একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার জন্য ধারাবাহিক সংস্কার ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।