দীর্ঘ ত্যাগ, দলের প্রতি আনুগত্য, ষোল বছরের স্বৈরাচার সরকারের জেল, জুলুম, অত্যাচার সহ্য করেছেন তিনি। তবুও রাজপথ ছাড়েননি। এই রাজনীতির পথ কখনোই তার জন্য মসৃণ ছিল না। ঘর থেকে রাজপথ, রাজপথ থেকে কারাগার-তারপরও থামেননি। বারবার এসেছে বাধা, মামলা এবং গ্রেপ্তার। কখনো রাজপথে, পুলিশের গাড়িতে, আদালতের বারান্দায়, কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে কেটেছে সময়। দলকে কঠিন সময়ের মধ্যদিয়ে টেনে নেয়ার দায়িত্ব পালন করে গেছেন। কখনো মঞ্চে দাঁড়িয়ে আবার কখনো পুলিশের বাধার মুখে রাজপথে। তবুও তিনি নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে দলের সংকট, টানাপড়েন ও আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে উঠেন বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনীতির মাঠে তার পরিচয় একজন আম-জনতার বন্ধু হিসেবে। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালে আছে দীর্ঘ এক ব্যক্তিগত লড়াইয়ের গল্প। রাজনীতির বাইরে থেকেও ক্ষমতায় থাকা স্বৈরশাসকের কঠিন চাপ অনুভব করতে হয়েছে তাকে। রাজনৈতিক জীবনের নানা বাঁকে এসেছে অনিশ্চয়তা। কখনো সামনে ছিল দলীয় কর্মসূচি, কখনো আদালত, আবার কখনো কারাগারের দরজা। একজন মহাসচিবকে শুধু বক্তৃতা দিলেই চলে না। তাকে ছুটতে হয়েছে দেশের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে হয়েছে, সংকট সামলাতে হয়েছে, দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মাঠে থাকতে হয়েছে। কখনো কঠোর হতে হয়েছে, কখনো ধৈর্য ধরতে হয়েছে।
রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যে দলের ভেতরের নানা মত ও ক্ষোভ সামলে ঐক্যের জায়গাটি ধরে রাখাও ছিল তার অন্যতম বড় পরীক্ষা। মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন সেই প্রশ্নগুলোরই এক বাস্তব উদাহরণ। তার রাজনৈতিক জীবনের গল্প শেষ হয়নি। বরং প্রতিটি সংকট, আন্দোলন এবং কঠিন সময় যেন সেই গল্পে একের পর এক নতুন অধ্যায় যোগ করে চলেছে। তবে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়গুলোর একটি এসেছে দলের ঐক্য ধরে রাখার প্রশ্নে।
একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে পদ-পদবি হয়তো সম্মানের, কিন্তু মির্জা ফখরুলের রাজনীতির এই অধ্যায় কেবল পদ-পদবির গল্প নয়; এর সঙ্গে মিশে আছে ব্যক্তিগত ত্যাগ, কারাবাসের স্মৃতি, রাজনৈতিক চাপ, পরিবারকে ঘিরে উদ্বেগ এবং একটি বড় রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বকে ধরে রাখার নিরন্তর চেষ্টা। তার দীর্ঘ পথচলার দিকে ফিরে তাকালে তাই উঠে আসে একজন রাজনীতিকের পাশাপাশি একজন স্বামী, একজন বাবা এবং দুঃসময়ে দলের ভার কাঁধে নেয়া নির্যাতন সয়ে চলা এক নেতার গল্প। দলের নেতৃত্বে থেকে কঠিন সময়ে নেতাকর্মীদের মনোবল ধরে রাখা। নানা মত ও ক্ষোভের মধ্যেও দল এবং জোটকে এক সুতোয় রাখার চেষ্টা, রাজপথের আন্দোলনে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়াসহ মিছিল-মিটিং, মামলা-হামলা, গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতা তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে যেন ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। প্রতিকূলতার মধ্যেও নেতাকর্মীদের পাশে থাকা এবং ভাঙন-হতাশার সময়ে দলকে ধরে রাখার কঠিন দায়িত্বও নিতে হয়েছে তাকে। সব মিলিয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের বড় একটি অধ্যায় লেখা হয়েছে প্রতিকূলতার ভেতর দিয়ে।
একদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি, অন্যদিকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাসিত, শীর্ষ নেতাদের কারাবরণ কিংবা রাজনৈতিক সংকট-প্রতিটি কঠিন সময়ে বিএনপি’র মহাসচিব হিসেবে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখার বড় দায়িত্ব এসে পড়েছে তার কাঁধে। বিরোধী রাজনীতির নানা চাপের মধ্যেও নেতাকর্মীদের সংগঠিত রাখা এবং দলের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন তিনি। একই সঙ্গে স্ত্রী-সন্তান এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়েও তাকে সামলাতে হয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা দুঃসময়।
সমালোচনা-প্রশ্ন উঠেছে, বিরোধিতাও হয়েছে: মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপি’র নেতৃত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে জনপ্রিয়তার পাশাপাশি সমালোচনাও পেয়েছেন। কখনো তাকে নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সংকটের সময়ে দলের হাল ধরে থাকার কারণে তার রাজনৈতিক ভূমিকা বারবার সামনে এসেছে। মির্জা ফখরুলের রাজনীতির আরেকটি দিক হলো তার ব্যক্তিগত স্বভাব। উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিবেশেও অনেক সময় তাকে তুলনামূলক শান্ত ও সংযত ভাষায় কথা বলতে দেখা যায়। রাজনীতিতে প্রতিপক্ষের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে ভাষার ব্যবহার কতোটা শালীন ও দায়িত্বশীল হওয়া উচিত-এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন সময়ের কড়া রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত আক্রমণের বক্তব্যের বিপরীতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের তুলনামূলক সংযত ও মার্জিত বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে তার সহনশীল চরিত্রই ফুটে উঠেছে।
একদিকে রাজনীতি, অন্যদিকে পরিবার: রাজনীতির উত্তাপ যখন ঘরের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তখন একজন নেতার ব্যক্তিগত জীবন আর ব্যক্তিগত থাকে না। গ্রেপ্তারের খবর, মামলার খবর কিংবা রাজনৈতিক কর্মসূচির উত্তেজনা-সবকিছুর সঙ্গে পরিবারের মানুষগুলোকেও থাকতে হয় উৎকণ্ঠার মধ্যে। স্বামী ও বাবা হিসেবে যে মানুষটি পরিবারের কাছে আপন, রাজনৈতিক পরিচয়ে সেই মানুষটিই আবার হয়ে ওঠেন বিরোধী রাজনীতির অন্যতম পরিচিত মুখ। রাজনীতির কারণে পরিবারকে সময় দিতে না পারার কষ্টও কম নয়। রাজনৈতিক ব্যস্ততার ভেতর সন্তানের পাশে থাকা, পরিবারের স্বাভাবিক জীবনে অংশ নেয়া কিংবা নিশ্চিন্তে ঘরে ফেরা-সবকিছুই অনেক সময় হয়ে ওঠে কঠিন। আর যখন কারাগারের দরজা বন্ধ হয়ে যায়, তখন বাইরে থাকা স্বজনদের অপেক্ষাই হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। তার রাজনৈতিক জীবনের সঙ্গে তাই জড়িয়ে আছে আন্দোলন, সংগ্রাম, পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্ট এবং নানা প্রতিকূলতার গল্প।
বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের গুরুতর একটি রোগ শনাক্ত হয় ২০২২ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরুতে। ওই বছর ১০ই ডিসেম্বর তার অস্ত্রোপচারের নির্ধারিত দিন ছিল। মির্জা ফখরুল যখন স্ত্রীর অস্ত্রোপচার করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন (৮ই ডিসেম্বর ২০২২ দিবাগত মধ্যরাতে) তাকে আটক করে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বাবা কারাগারে, মায়ের গুরুতর রোগ শনাক্ত-সেইসব দিনের কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ওই সময় একটি আবেগঘন পোস্ট দেন মির্জা ফখরুলের মেয়ে শামারুহ মির্জা। তার পোস্টে ছিল আক্ষেপের কথাও। শামারুহ লিখেন, ‘ফোনটা আব্বু করেছিল ২০২২-এ, ৫ থেকে ৬ই ডিসেম্বর। আমাকে বললো আম্মুর ডায়াগনোসিসের (রোগ শনাক্ত) কথা। আব্বু বললো “চিন্তা করো না মা, ১০ তারিখে সার্জারি করা হচ্ছে, তারপর ফেব্রুয়ারিতে কেমো (কেমোথেরাপি) শুরু।” ‘৮/৯ তারিখে ভোর ৩/৪টার দিকে আম্মু কল করলো। আব্বুকে গভীর রাতে ডিবি পুলিশ এসে নিয়ে গেল। পাগলের মতো হয়ে গেলাম।’ লিখেন শামারুহ।
২০২২ সালের ১০ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপি’র বিভাগীয় গণসমাবেশ ছিল। তার আগে পুলিশ বিশেষ অভিযান শুরু করে। ঢাকায় প্রবেশমুখে করা হয় তল্লাশি। গণহারে গ্রেপ্তার করা হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের। সমাবেশের আগে ৮ই ডিসেম্বর ২০২২ দিবাগত মধ্যরাতে মির্জা ফখরুলকে বাসা থেকে ধরে নিয়ে যায় ডিবি। পরে তাকে একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওদিকে মির্জা ফখরুলের স্ত্রীর অস্ত্রোপচার দু’দিন পরেই। শামারুহ মির্জা লিখেন, ‘ডিসেম্বর মাস। টিকিট (উড়োজাহাজ) পাচ্ছি না। যেটা পেলাম, আকাশচুম্বী দাম। আমার তো যেতে হবেই। চলে গেলাম ঢাকা। আব্বুর সঙ্গে দেখা করতে ভীষণ কড়াকড়ি। সুযোগ পেলাম। আব্বুর চোখভরা পানি-“মা, তুমি দেখো তোমার মায়ের ব্যাপারটা।” শামারুহ জানান, তিনি পরে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলেন। চিকিৎসক জরুরি ভিত্তিতে তার মায়ের অস্ত্রোপচারের তাগিদ দেন। দিন নির্ধারিত হয়। কিন্তু বেঁকে বসেন তার মা। তিনি (শামারুহ) লিখেছেন, ‘আম্মু বললো, “তোমার আব্বুকে ছাড়া অস্ত্রোপচার করবো না”। অনেক বোঝালাম। রাজি হলো। সেদিন পুরো হাসপাতালে আমরা দুই বোন। ইউনূস ভাই। আর জাহিদ (এ জেড এম জাহিদ হোসেন) চাচা। জাহিদ চাচার কথা কি বলবো! নিজের চাচার থেকেও বেশি। শামারুহ জানান, অস্ত্রোপচারের পুরোটা সময় দুই বোনের সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সে সময় বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ফোন করেছেন। জুবাইদা রহমান কথা বলেছেন। অনেকেই এসেছেন। এর দু’দিন পরে মির্জা ফখরুল জামিন পান।
সহধর্মিণীই ফখরুলের জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি: নিজের স্ত্রী রাহাত আরা বেগমকে জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাজনৈতিক জীবনের নানা সংকট ও অনিশ্চয়তার সময়ে স্ত্রীর সাহস, ত্যাগ ও সহযোগিতার কথাও স্মরণ করেন তিনি। সম্প্রতি একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমকে দেয়া ভিডিও সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। ফখরুল বলেন, আমার সহধর্মিণী (রাহাত আরা বেগম) আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রাপ্তি। আমি আল্লাহ তায়ালার কাছে সবসময় শুকরিয়া আদায় করি আমি খুব ভাগ্যবান। আমার তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল। সি কুড বিকাম মাই লাইফ পার্টনার। কারণ আমি, আমার জীবনটা বিয়ের পরেই আমার ট্রান্সফার পোস্টিংটা। এরপর রাজনৈতিক জীবনে চলে আসা। পুরোপুরি একটা অনিশ্চিত জীবন। তিনি বলেন, তিনি নিজে চাকরি করেছেন, দীর্ঘদিন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে কাজ করেছেন। তার চেষ্টাতেই আমার মেয়েরা লেখাপড়া শিখেছে। হলিক্রসে পড়াশোনা করেছে এবং কষ্ট করেছে। আমার মেয়েরা এবং আমার স্ত্রী এরা টেম্পোতে যাতায়াত করতো। এই কষ্টটা উনি করেছেন খুব প্রচুরভাবে। পরবর্তীতে যখন কিছুটা ভালো বেতন পেলেন, আমিও কিছুটা সেট হওয়ার মতো অবস্থায় আসলাম। রাজনীতির কারণে মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তার ও নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। এসব পরিস্থিতিতে স্ত্রীর দৃঢ় মনোভাবের কথাও তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল।
ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি থেকে প্রেসিডেন্ট: ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতি করে আসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করে শিক্ষকতায় যোগ দিয়েছিলেন ফখরুল। ঢাকা কলেজ, দিনাজপুর কলেজে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন তিনি।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে তিনি পুরোপুরি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯৮৮ সালে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে জিতে হন চেয়ারম্যান। ছাত্রজীবনের বাম রাজনীতি থেকে উঠে আসা মির্জা ফখরুলের জাতীয় রাজনীতিতে হাতেখড়ি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর দল ন্যাপে, ভাসানীর হাত ধরে রাজনীতির আঁকাবাঁকা পথ অতিক্রম করেছেন। সেখান থেকেই বিএনপিতে যোগদান, যে দলটির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব ছিলেন ফখরুল ইসলাম।
১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপি’র সভাপতি, পরে দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য থেকে শুরু করে ধীরে ধীরে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব পদে উঠে আসেন তিনি। ২০১১ সাল থেকে বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এবং ২০১৬ সালে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে মহাসচিব নির্বাচিত হন। বিএনপি’র শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃত্বে আসার আগে তিনি জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের প্রথম সহ-সভাপতি এবং পরে সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন দীর্ঘদিন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়নে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম। ২০০১-২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারে তাকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন তখনকার প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া। আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত হওয়ায় তাকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২০১৮ সালে একাদশ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে তিনি শপথ না নেয়ায় ওই আসনে উপনির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি’র জিএম সিরাজ সংসদে যান।
দুই মেয়ে নিয়েই মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও রাহাত আরা বেগমের সংসার। বড় মেয়ে মির্জা শামারুহ অস্ট্রেলিয়ায় স্বামী-সন্তান নিয়ে আছেন। সিডনির একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্ট ডক্টরাল ফেলোশিপ নিয়ে এখন ক্যানবেরার ফেডারেল মেডিকেল কাউন্সিলের সিনিয়র সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন। ছোট মেয়ে মির্জা সাফারুহ ধানমণ্ডির সানি ডেল স্কুলে শিক্ষকতা করছেন।